লকডাউনে হেঁটে কারখানায় যাবেন শ্রমিকরা

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:15 AM, 13 April 2021
SAMSUNG DIGITAL CAMERA

হঠাৎ করেই করোনার সংক্রমণে বেড়ে যাওয়ায় বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে সাত দিনের জন্য ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ আরোপ করেছে সরকার। সাত দিন দেশব্যাপী সার্বিক কার্যাবলী ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিল্প-কারখানা চালু থাকবে। অর্থাৎ শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

তবে পোশাক কারখানার মালিকরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতের ৯০ ভাগ শ্রমিকই কারখানার আশেপাশে থাকেন। ফলে লকডাউন চলাকালে তারা পায়ে হেঁটেই কাজে যোগ দেবেন। কিন্তু এতে বিপাকে পড়েছেন দূরবর্তী শ্রমিকেরা। কোনো কোনো কারখানা তাদের নিজস্ব পরিবহণে দূরের শ্রমিকদের কারখানায় নিয়ে আসেন। তবে সুপারভাইজর লেভেলের কিছু শ্রমিক গণপরিবহনেই যাতায়াত করেন।

সোমবার (১২ এপ্রিল) বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান গণমাধ্যমে বলেন, ‘অধিকাংশ শ্রমিক গার্মেন্টস কারখানার আশপাশেই থাকে, ফলে শ্রমিকদের জন্য আলাদা করে কোনও যানবাহনের দরকার হবে না। যেসব কারখানার অর্ডার আছে, কেবল তারাই কারখানা চালু রাখবেন।’ তার মতে, এই লকডাউনের মধ্যে কারখানা চালু থাকলেও কোনও কারখানাই শতভাগ উৎপাদনে থাকবে না। ফলে স্বাভাবিক সময়ের মতো সব শ্রমিকের দরকারও হবে না।

তিনি বলেন, ‘যেসব কারখানার শ্রমিকরা দূরে থাকেন, তাদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা আছে। কাজেই শ্রমিকদের আনা-নেওয়া নিয়ে গার্মেন্টস মালিকরা দুশ্চিন্তা বা টেনশন করছেন না।’

ফারুক হাসানের মতো একই ধরনের মত প্রকাশ করেন বিকেএমইএ’র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, ‘যেসব শ্রমিক এতদিন হেঁটে হেঁটে কারখানায় আসতেন, সেই সব শ্রমিক লকডাউনকালেও হেঁটে হেঁটে কারখানায় যাবেন।’

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরাও চাই রাস্তায় যেন কোনও গাড়ি না চলে, আর আমাদের অধিকাংশ কারখানা গড়ে উঠেছে আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরে। শ্রমিকরা নিজ নিজ কারখানার আশপাশেই থাকেন। এ কারণে শ্রমিকদের আনা-নেওয়ার জন্য নতুন করে কোনও যানবাহন লাগবে না।’

প্রসঙ্গত, বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে সাত দিনের সার্বিক কার্যাবরী ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৩ দফা নির্দেশনাসহ এ প্রজ্ঞাপন জারি করে। উপসচিব মো. রেজাউল ইসলামের সই করা প্রজ্ঞাপনে জারি করা নির্দেশনায় ১৪ এপ্রিল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাইন মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়, ‘সব সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ-নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবে। তবে বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দর ও তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, বিমান) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবা এ আদেশের বাইরে থাকবে। শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে।’

আপনার মতামত লিখুন :